বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরদিনই রাজধানীর কাঁচাবাজারে প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সবজির দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা বাজারে কাঁকরোল, করলা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, বরবটি, চিচিংগা ও শসার কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই অজুহাতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ব্রয়লারের কেজিতে ৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন মুরগি ব্যবসায়ীরা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁকরোল ৫৫-৬০, করলা ৭০-৮০, বরবটি ৬০-৬৫, কাঁচকলা ৩০-৩৫, আকার ভেদে মিষ্টি কুমড়া ৫০-৬০, গাঁজর ১২০-১৪০, বড়-ছোট হিসেবে লাউ ৬০-৭০, বরবটি ৭০-৭৫, পটোল ৬০-৬৫, টমেটো ১২০ এবং শসা ৭০ টাকা কেজিতে কিনছেন ক্রেতারা।
পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা দাবি করেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সবজির দামও বেড়েছে। পাইকারি পর্যায়ে প্রায় সব ধরনের সবজির কেজিতে ৩-৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে খুচরা পর্যায়ে গিয়ে ৮-১০ টাকা বাড়তিতে গিয়ে ঠেকছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে দাম আরও বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক ব্যবসায়ী।
গতকাল শনিবার রাজধানীর হাতিরপুল, মহাখালী ও কারওয়ান বাজার সরেজমিনে ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
মহাখালী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী ফিরোজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ানোর কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়তি। এখন যতটা না বেড়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা আরও বেড়ে যাবে। আজকে ৩৫-৪০ টাকায় কিনতে পারলেও কাল থেকে হয়তো কাঁচকলার হালি কিনতে হবে ৫০ টাকায়।’
এক দিনের ব্যবধানে মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি ব্রয়লারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৭০ টাকা বিক্রি করছেন। গত শুক্রবারও বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায়।
হাতিরপুলে বাজার করতে আসা সিয়াম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরেই দ্রব্যমূল্য বেড়ে চলেছে। এখন মনে হয় আরও বাড়বে। আর এভাবে চলা যায় না। বাজারে যে হারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে সেই অনুযায়ী আমাদের বেতন তো বাড়ছে না।’
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব মাছের বাজারেও পড়েছে। কারওয়ান বাজারের মাছের আড়ৎ ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের মাছের দামও বাড়তি। সবজি বিক্রেতাদের মতো মাছ ব্যবসায়ীদেরও একই যুক্তি। ট্রাকের ভাড়া বাড়ায় সব ধরনের মাছের কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বাড়িয়েছেন তারা। তাদের ভাষ্যমতে, ঢাকার ভেতরে এক বাজার থেকে আরেক বাজারের ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বড় রূপচাঁদা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০, পাবদা ৬০০, রুই মাছ ৩০০-৪৫০, তেলাপিয়া, পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকায়। কাচকি ৭০০, টেংরা ৬০০, পুঁটি ৮০০, গুলসা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।